Tuesday, July 15, 2025

বাংলাদেশি গবেষক প্রমিত ঘোষের তাপ বিকিরণের সূত্রের বৈপ্লবিক আবিষ্কার

 




১৬৫ বছরের পুরনো তাপ বিকিরণ সূত্র ভেঙে বৈপ্লবিক আবিষ্কার বাংলাদেশি গবেষক প্রমিত ঘোষের

তাপ বিকিরণ নিয়ে ১৬৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত একটি সূত্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। এই যুগান্তকারী গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী প্রমিত ঘোষ, যিনি বর্তমানে পেন স্টেটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছেন।

গবেষণাপত্রটি ২০২৫ সালের ২৩ জুন Physical Review Letters–এ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এবং জার্নালটির “Editors’ Suggestion” হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছে, যা এর গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক মানের স্বীকৃতি বহন করে।

*কিরখফের সূত্র এবং নতুন আবিষ্কারের তাৎপর্যঃ

১৮৬০ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী গুসটাভ কিরখফ একটি মৌলিক সূত্র দেন—Kirchhoff’s Law of Thermal Radiation—যেখানে বলা হয়, নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কোণে কোনো বস্তুর তাপ বিকিরণ ক্ষমতা (emissivity) এবং শোষণ ক্ষমতা (absorptivity) সমান হবে। এই সূত্রটি দীর্ঘদিন ধরে তাপগতিবিদ্যার এক অবিচল নীতিরূপে বিবেচিত ছিল।

তবে পেন স্টেট গবেষকরা এমন একটি মেটামেটেরিয়াল তৈরি করেছেন, যেটি এই সূত্রের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ আচরণ করে। মাত্র ২ মাইক্রোমিটার পুরু ও পাঁচটি সেমিকন্ডাক্টর স্তরবিশিষ্ট এই উপাদানটি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের অধীনে প্রচলিত বস্তুদের মতো আচরণ না করে অধিক বিকিরণ করে কিন্তু তুলনামূলক কম শোষণ করে।

*বৈপ্লবিক ‘নন-রিকিপ্রোসিটি’ প্রমাণঃ

গবেষকরা “Angle-Resolved Magnetic Thermal Emission Spectrophotometer” নামের একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র তৈরি করেছেন, যার সাহায্যে নির্দিষ্ট কোণ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যে তাপ বিকিরণের মাত্রা নির্ণয় সম্ভব হয়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ০.৪৩ মাত্রার শক্তিশালী ‘nonreciprocity’ (emissivity ≠ absorptivity) ধরা পড়ে, যা এখন পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।

*ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বিপ্লবঃ

এই আবিষ্কার শুধু তাত্ত্বিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌর প্যানেল সাধারণত সূর্যের আলো শোষণের পাশাপাশি কিছু তাপ বিকিরণ করে, যা Kirchhoff-এর সূত্র অনুযায়ী অপচয় হয়। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বিকিরিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্য প্যানেলে পাঠানো সম্ভব, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

*বাংলাদেশি গবেষকের অসাধারণ অবদানঃ

গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য প্রমিত ঘোষের নাম সহ-লেখক হিসেবে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর অবদান প্রমাণ করে দিয়েছে—নতুন চিন্তা, সাহসী গবেষণা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয়ে শতাব্দীপ্রাচীন বৈজ্ঞানিক মতবাদও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের জন্য এটি এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যা পরবর্তী প্রজন্মকে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ও সাহসী পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত করবে।

0 comments:

Post a Comment